আজ ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস

“বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।”

আজ ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছর সকল প্রকার লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ,নারীর সমানাধিকার আদায়, সকল কাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতি এবং তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শনের লক্ষ্যে দিনটিকে বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়ে থাকে।এবছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘Gender equality today for a sustainable tomorrow.’ অর্থাৎ সুন্দর আগামীর জন্য প্রয়োজন বর্তমানের লিঙ্গসমতা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পূর্ব নাম ছিলো আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। নারী দিবস উদযাপনের পিছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক সাফল্যমন্ডিত ইতিহাস; ১৮৫৭ সালের নিউইয়র্কের রাস্তায় মজুরি বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, কাজের অমানবিক পরিবেশ প্রভৃতির বিরুদ্ধে নারী শ্রমিকদের মিছিল এবং সেই মিছিলে নারীদের উপর হামলা। যার সূত্র ধরে পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে নারী দিবস হিসেবে পালনের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
আমাদের দেশেও নারীরা প্রতিনিয়তই নানা ধরণের বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। নারী দিবস স্বীকৃতি পেলেও নারীর অধিকার, তাদের অবদান, তাদের পরিশ্রম আজও সমাজে পুরোপুরি স্বীকৃত নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইভটিজিং, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা প্রভৃতি এখনকার নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। তবুও সকল প্রকার বৈষম্য, কুসংস্কার, বাঁধা প্রভৃতি পেছনে ফেলে নারীরা দৃঢ় পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হচ্ছে, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াইও করছে। নারীদের অগ্রগতির এই ধারাবাহিকতা সামনের দিনগুলোতেও বজায় থাকবে, ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই সবার প্রতি সহনশীল হবে এবং সবাই মিলে বৈষম্যহীন সুন্দর একটি সমাজ গড়ে তুলবে- আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এটাই KIN এর প্রত্যাশা।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

Leave a Comment

Your email address will not be published.