শুভ নববর্ষ, ১৪২৯

যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক। যাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
পহেলা বৈশাখ; বাংলা বর্ষপঞ্জিকার প্রথম দিন, বাংলা বছরের শুভ সূচনালগ্ন। বিগত বছরের সকল দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, ভুল-ভ্রান্তিকে পিছনে ফেলে নতুন করে জীবনকে সাজানোর শুভক্ষণ।

বাঙালির নিজস্ব জাতীয়তার পরিচায়ক এই বৈশাখ। বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির ঐতিহ্য, বাঙালির নিদর্শন, বাঙালির পরিচয় সব যেনো এই বৈশাখের সাথেই মিশে আছে স্বগৌরবে,আপন মহিমায়। প্রায় ৪৫০ বছর ধরে বাংলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে আসছে।
রমনার বটমূলে ছায়ানটের সংগীতানুষ্ঠান,ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা,আলপনা,পান্তা-ইলিশ,হালখাতা প্রভৃতিই যেনো জানান দেয়, বৈশাখ এসেছে ধরায়। গ্রীষ্মের তপ্ত দাবদাহ, গাছে গাছে তরু পত্রপল্লব, আম কাঁঠালের সুমিষ্ট সুগন্ধ, হঠাৎ হঠাৎ বৈশাখী ঝড়- কি নেই বৈশাখে! পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বৈশাখী মেলা যেনো বাঙালির, বিশেষত গ্রামীণ বাঙালিদের চিরাচরিত একটি প্রথা। মুড়ি-মুড়কি, নাগরদোলা, পুতুল নাচ, যাত্রা, পালাগান, মাটির তৈজসপত্র, খেলনা, ঢাক-ঢোল প্রভৃতি থাকে বৈশাখী মেলার প্রধান আকর্ষণ। এসবের মধ্যে দিয়েই গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, শহর নির্বিশেষে সবজায়গায় সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা বর্ষবরণ।

নতুন বছরে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবো সম্মুখ পানে; বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, গৌরব রক্ষা করার চেষ্টা করবো এবং তা নান্দনিকভাবে তুলে ধরবো বিশ্বসম্মুখে- এই হোক বৈশাখের প্রত্যাশা।

“শুভ নববর্ষ, ১৪২৯”
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

Leave a Comment

Your email address will not be published.