আজ ১লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিনটি ‘মহান মে দিবস’ নামেও পরিচিত।
১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অসংখ্য শ্রমিক আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে নিজেদের রক্ত দিয়েছিলো,জীবন উৎসর্গ করেছিলো। যার ফলশ্রুতিতে ১৮৮৯ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে সরকারিভাবে মে মাসের প্রথম দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এ বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক একতা, উন্নয়নের নিশ্চয়তা’। ‘শ্রমিক’-নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে, নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে দুমুঠো অন্ন যোগাড়ের জন্য প্রতিনিয়ত অমানুষিক কাজ করে যাওয়া মেহনতি মানুষ। আমাদের আশেপাশের রিকশাচালক, কৃষক, দিনমুজুর, পোশাকশ্রমিক, বাড়ি- রাস্তাঘাট প্রভৃতি নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে নিয়োজিত খেটে খাওয়া মানুষ ; যারা প্রতিনিয়তই আমাদের বিভিন্নভাবে সেবা দিয়ে থাকে, আমাদের জীবনকে সহজ করে থাকে সেই পরিশ্রমী, বঞ্চিত মানুষরাই শ্রমিক।
১৮৮৬ থেকে ২০২২; ন্যায্য শ্রমঘন্টা, শ্রমমজুরি ও শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের আজ ১৩৬ বছর। এর আগে পার হয়ে গিয়েছে আরো ১৩৫ টি বছর। কিন্তু বেশিদূরে না, আমাদের নিকটবর্তী এলাকায়, আমাদের চারপাশে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট বোঝা যায় শ্রমিকরা আজও তাদের সেই আন্দোলনের ন্যায্য প্রতিদান, ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। সারাদিন-রাত হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও ন্যায্য মজুরি যেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা; সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, বিশ্রাম, স্বাস্থ্য, শ্রমের নিশ্চয়তা এইসকল কিছু কল্পনাতীত। অথচ এইগুলো কারো করুণা নয়, ইচ্ছা নয়, এইগুলো তাদের প্রাপ্য অধিকার। যা আদায়ের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলো শোষণের শিকার অসংখ্য শ্রমিক। আমরা সবাই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সচেতন হবো, যথাসময়ে তাদের প্রাপ্য মজুরি দেওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকবো এবং সর্বদা তাদেরকে সম্মানের চোখে দেখবো- এই হোক আমাদের আগামীর প্রত্যাশা। অন্ধকার পেরিয়ে আলোকচ্ছটা আসবে ধরায়, মালিক-শ্রমিক একতার, ন্যায্য শ্রমঅধিকারের নতুন সূর্য উঠবে- সেই সুন্দর আগামীর কামনায় সকল শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষকে জানাই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

Leave a Comment

Your email address will not be published.